LiFePO4 লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারীর "Grade" কি? কেনার আগে অবশ্যই জানুন!
LiFePO4 ব্যাটারী সম্পর্কে আলোচনা করলেই দেখা যায় অসংখ্য বিজ্ঞাপন যে, “তারা বেশি টাকা নিচ্ছে/ আমাদের কাছে অনেক কমে পাবেন/ আমরা by sea শত টন আনি তাই কম হয়” ইত্যাদি কিন্তু তারা কখনওই QR কোড দেখাতে চাইবে না।
 
 
মূলত আমরা প্রথম থেকেই সম্মানিত ক্রেতা সাধারনকে সতর্ক করে আসছি যে, যেখান থেকেই ব্যাটারী ক্রয় করবেন অবশ্যই A+ গ্রেডের ব্যাটারী হতে হবে এবং QR code দেখে কিনবেন। চাইনিজ ফ্যাক্টরিগুলো নিজেরা ব্যাটারী ম্যানুফেকচার করে এবং আপনি যত প্রাইসে চাইবেন তততেই তারা তৈরী করে দিবে। কিন্তু কিভাবে?
তারা মূলত ব্যাটারী এর কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজ করবে। যে Raw material থেকে ব্যাটারী তৈরী হয় তাতে impurity যোগ করার মাধ্যমে ব্যাটারী প্রাইসকে নিয়ন্ত্রন করে ফ্যাক্টরিগুলো। ঠিক যেভাবে তামা বা কপারের তারে নিকেল/টিন বা অন্যান্য ধাতু যোগ করে ক্যাবলের কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজ করে তারা। এতে আপনি ঠিকই আউটপুট পাচ্ছেন কিন্তু এর স্থায়ীত্ব কমে যাচ্ছে, অধিকতর হিট হচ্ছে, রেজিস্টেন্সের দরুন voltage ও energy loss সহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।
 
 
আর তাই ব্যাটারী ক্রয়ের নির্ভরযোগ্য পন্থা হলো ব্র্যান্ডের ব্যাটারী ক্রয় করা যেমন EVE, CATL, Lishen বিশেষ করে যারা laser marking করা QR কোড দ্বারা ব্যাটারী সেল ভেরিফাই করার সুযোগ দেয়। কেননা যে কোন ব্র্যান্ড তাদের কোয়ালিটি মেইন্টেইন করে। তারা EV ইন্ড্রাস্টিতে হাজার কোটি টাকার ডিল করে যার একমাত্র কারন তাদের reputation এবং এটা কখনোই তারা নষ্ট হতে দিতে চাইবে না। QR code verification এর দ্বারা আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন এই ব্যাটারী সেল জেনুইন কিন। উৎপাদন তারিখত কত ইত্যাদি।
 
ফটোতে কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে ম্যানুফেকচারের প্রতিটি স্তরে যে সকল মান নিশ্চিত করা হয় তা হাইলাইট করে দেয়া হয়েছে। যে কোন একটির মানে সমস্যা হলে তা কখনোই QC passed হবে না।
 
 
 

লিথিয়াম ব্যাটারী কিনে ধরা খেতে পারেন যেভাবে:

 
 
১) Battery Grade: ব্যাটারী ম্যানুফেকচার করার পর manufacturing defect বা কোয়ালিটি ইস্যু হওয়া cell গুলোকে B বা C গ্রেড ক্যাটাগরিতে রাখা হয়। এ সকল ব্যাটারী মূলত রিজেক্ট হওয়া পন্য তা একদল অনেক কম দামে কিনে নেয় এবং খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে LiFePO4 ব্যাটারী সম্পর্কে এবার চায়নিজদের থেকেই শুনুন। যেখানে সেইম ক্যাপাসিটি ও ব্র্যান্ডের A ও B গ্রেড ব্যাটারীর তুলনা করা হয়েছে। লিংক কমেন্টবক্সে।
A গ্রেড ব্যাটারী কিভাবে চিনবেন আমাদের পূর্বের পোস্টে বিস্তারিত তথ্য দেয়া রয়েছে।
 
২) Battery C Rating: একই ক্যাপসিটির ব্যাটারী বিভিন্ন C-rating এর মডেল বিক্রয় হচ্ছে। Charge ও Discharge রেটকে C-দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যেমন ধরুন একটি 12V 100Ah ব্যাটারি প্যাকের C-rating হলো 0.5C/0.5C. মানে আপনি এটি থেকে ম্যাক্সিমার 100Ah * 0.5C = 50A রেটে charge ও discharge করতে পারবেন। তাহলে এই ব্যাটারি প্যাকটি ম্যাক্সিমাম লোড নিতে পারবে 12V * 50A = 600W. সেফটির লক্ষ্যে আপনি ৮০% বা 480W লোড ব্যবহার করতে পারেন।
অনূরূপভাবে যে মডেলগুলো 1C/3C হয় সেগুলো থেকে 100A রেটে ও মেক্সিমাম 300A রেটে ডিসচার্জ করা পসিবল। আর এই দুই মডেলের প্রাইসে অনেক তফাৎ রয়েছে।
 
৩) Quality: নিম্নমানের raw material বা impurity এর সমন্বয়ে উৎপন্ন সেল। কোয়ালিটি কন্ট্রোলের বালাই নেই। শুধুমাত্র আপনার হাতে পৌছে দিতে পারলেই ২-৫ বছর নিশ্চিত। যারা সাপ্লাই দিচ্ছে তারা নিজেরাও শিওর না অরিজিনাল কিনা। আপনারও যাচাই করার সুযোগ নেই। তাদের মুখের কথাই একমাত্র ভরসা।
 
৪) রেডিমেড প্যাক অনেক কমে পাওয়া যাচ্ছে কিন্ত ভিতের ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের প্রিসমেটিক সেল বা সিলিন্ডার সেল। যেগুলো প্রিজমেটিক সেল থেকে অনেক কম সাইকেল লাইফের।
 
৫) পুরোনো বা EV তে ব্যবহৃত সেল refurbished ব্যাটারী repack করে বিক্রয় হচ্ছে ৯৯% নতুন দাবী করে।
 
 
তাই কেনার আগে অবশ্যই ব্যাটারী সেল এর QR code যাচাই করে কিনুন যেন আপনার কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক মূল্যায়ন হয়। ধন্যবাদ!